Showing posts with label pak vs ire test. Show all posts
Showing posts with label pak vs ire test. Show all posts

Wednesday, May 16, 2018

কেভিন-ইতিহাসের পর আইরিশ বোলারদের ছোবল

কেভিন-ইতিহাসের পর আইরিশ বোলারদের ছোবল



দেশের প্রথম টেস্ট, নিজের প্রথম টেস্ট। তাতে কি, ৩৪ বছর বয়সে সেই অভিষেক টেস্টেই শতরান করলেন আয়ারল্যান্ডের অলরাউন্ডার কেভিন ও'ব্রেইন। তাঁর ব্যাটে ভর করেই পাকিস্তানকে ১৬০ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে স্বাগতিক বোলারদের ছোবলে পাকিস্তান খেয়েছে হিমশিম।  

দ্বিতীয় ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩৩৯ রান করেছিল স্বাগতিকরা। জবাব দিতে নেমে মাত্র ১৪ রানে তিন উইকেট হারালেও ইমাম-উল-হক(৬৩ অপঃ) আর বাবর আজম (৪১ অপঃ) ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তাদের অপরাজিত সংগ্রহ এখন পর্যন্ত ১০১ রান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অতিথিদের সংগ্রহ তিন উইকেটে ১১৫ রান।

এর আগে নিজেদের অভিষেক টেস্টের চতুর্থ দিনে ইতিহাসের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে শুরুর টেস্টেই শতক হাঁকানর গৌরব অর্জন করেছিলেন কেভিন। ১৮৬ বলে ১০ চারে কেভিন তুলে নিয়েছিলেন নিজের প্রথম টেস্ট শতক।

আইরিশ এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের আগে দেশের প্রথম টেস্টে শতকের দেখা পেয়েছিলেন চার্লস ব্যানারম্যান (অস্ট্রেলিয়া), ডেভ হটন (জিম্বাবুয়ে) ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল (বাংলাদেশ)।

তবে, ১১৮ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করা কেভিন পঞ্চম দিনে থেমেছেন আগের দিনের রানের সঙ্গে আর কোনো রান যোগ না করেই। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস তুলে নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট।  


Cholo Bangladesh

Monday, May 14, 2018

ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরিতে উদ্ভাসিত কেভিন ও’ব্রায়েন

ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরিতে উদ্ভাসিত কেভিন ও’ব্রায়েন



আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত সেঞ্চুরিটি তার ব্যাট থেকেই এসেছিল। ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে। এবার সংস্করণ অন্য, সময় ভিন্ন, প্রেক্ষাপট আলাদা। কিন্তু নায়ক আবার সেই কেভিন ও'ব্রায়েন। উপলক্ষ্য রাঙালেন সেঞ্চুরিতে।

আয়ারল্যান্ডের অভিষেক টেস্ট স্মরণীয় করে রাখলেন ইতিহাস গড়া ইনিংসে।
কেভিনের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে ডাবলিন টেস্টে দারুণ ভাবে লড়ে যাচ্ছে আয়ারল্যান্ড। ফলো অনের পর আগের দিন যে লড়াইয়ের সূচনা করেছিলেন দলের দুই ওপেনার, সেই লড়াইয়ে চতুর্থ দিনেও হাল ছাড়েনি আইরিশরা। সোমবার দিন শেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের রান ৭ উইকেটে ৩১৯।

প্রথম ইনিংসের ১৮০ রানের ঘাটতি পুষিয়ে আইরিশরা এখন এগিয়ে ১৩৯ রানে। শেষ দিনে রান তাড়ার কাজটি পাকিস্তানের জন্য সহজ হওয়ার কথা নয় মোটেও!
দেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরির করার মাত্র চতুর্থ কীর্তি গড়েছেন কেভিন। যে কৃতিত্ব এর আগে দেখিয়েছিলেন ইতিহাসের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ব্যানারম্যান, জিম্বাবুয়ের প্রথম টেস্টে ডেভ হটন ও বাংলাদেশের অভিষেকে আমিনুল ইসলাম।
দিনে শেষটা যেমন আইরিশদের সুখকর, দিনের শুরুটা ছিল উল্টো। বিনা উইকেটে ৬৪ রান নিয়ে শুরু করে ৬৯ রানে যেতেই নেই দুই উইকেট।
নির্ভরতায় খেলতে থাকা এড জয়েস রান আউট ৪৩ রানে। প্রথম ইনিংসের মতোই দ্বিতীয় ইনিংসে রানের দেখা পাননি অ্যান্ড্র বালবার্নি। অভিষেকে 'পেয়ার' পাওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত অর্জন।


খানিক পর আবার জোড়া ধাক্কা। ও'ব্রায়েন ভাইদের বড় জন, নিয়ালের স্টাম্প উপড়ে দেন মোহাম্মদ আমির। নিজের পরের ওভারে ফেরান থিতু হয়ে যাওয়া আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকেও (১২০ বলে ৩২)।
আয়ার‌্যান্ডের রান তখন ৪ উইকেটে ৯৫। ইনিংস পরাজয় এড়ানো নিয়ে তখন শঙ্কা। কেভিনের লড়াই শুরু সেখান থেকে। পল স্টার্লিং ও গ্যারি উইলসন খানিকটা সঙ্গ দিয়ে ফিরে যান। কেভিনের লড়াইয়ে যোগ্য সঙ্গত ধরেন স্টুয়ার্ট টমসন।
চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় দুইজন দলকে উদ্ধার করেন বিপদ থেকে। ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুর সেই ম্যাচে ৫০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ও'ব্রায়েন। এবার ১০০ বলে স্পর্শ করেন ৫০, টেস্টে আইরিশদের প্রথম ফিফটি। পরে ফিফটি করেন টমসনও।
দুজন মিলে আয়ারল্যান্ডকে উপহার দেন টেস্টে প্রথম শতরানের জুটি। সপ্তম উইকেটে ১১৪ রানে মহামূল্য জুটি।
দারুণ এক ডেলিভারিতে টমসনকে ৫৩ রানে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন লেগ স্পিনার শাদাব খান। তবে কেভিনের লড়াইয়ে ভাঙন ধরাতে পারেনি কেউ। নয়ে নেমে টাইরোন কেইন দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন সেঞ্চুরিয়ানকে। দিন শেষে অবিচ্ছিন্ন অষ্টম জুটিতেও উঠে গেছে ৪৮ রান। ৬৭ বলে ৮ রানে অপরাজিত কেইন।
ও'ব্রায়েন সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ১৮৯ বলে। ৩৪ বছর ৭১ দিন বয়সে করলেন সেঞ্চুরি, ব্যক্তিগত অভিষেকে তার চেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরি করেছেন কেবল অ্যাডাম ভোজেস ও ডেভ হটন।
আইরিশদের আশার সূর্য মধ্যগগণে রেখে দিন শেষে অপরাজিত কেভিন। নামের পাশে ১২ চারে ২১৬ বলে ১১৮।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩১০/৯ (ডি.)
আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৩০
আয়ারল্যান্ড ২য় ইনিংস: (ফলো অনের পর) ১২২ ওভারে ৩১৯/৭ (আগের দিন ৬৪/০) (জয়েস ৪৩, পোর্টারফিল্ড ৩২, বালবার্নি ০, নিয়াল ১৮, স্টার্লিং ১১, কেভিন ১১৮*, উইলসন ১২, টমসন ৫৩, কেইন ৮*; আমির ৩/৫৭, আব্বাস ২/৫৪, রাহাত ০/৭৫, ফাহিম ০/৫১, শাদাব ১/৬৩)।

ফলো অনের পর আইরিশদের প্রতিরোধ

ফলো অনের পর আইরিশদের প্রতিরোধ



আইরিশদের বোলিংয়ের আনন্দ অনেকটাই উবে গিয়েছিলে ব্যাটিংয়ে নেমে। সবুজাভ উইকেটে টের পেয়েছে তারা টেস্ট ক্রিকেটের উত্তাপ। নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে এড়াতে পারেনি ফলো অন। তবে ফলো অনের পর ব্যাট করতে দুই আইরিশ ওপেনার উপহার দিয়েছেন দারুণ লড়াই।
ডাবলিন টেস্টের তৃতীয় দিন দেখেছে তিনটি ইনিংসের মুখ। ম্যালাহাইডে রোববার ৯ উইকেটে ৩১০ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। আয়ারল্যান্ড প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ১৩০ রানে। ফলো অনের পর দ্বিতীয় ইনিংসে আইরিশরা দিন শেষ করেছে বিনা উইকেটে ৬৪ রানে।

আগের দিন পাকিস্তানকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করেছিল লোয়ার মিডল অর্ডারে শাদাব খান ও অভিষিক্ত ফাহিম আশরাফের জুটি। দারুণ সেই জুটি এদিন আর খুব বেশি এগোতে পারেনি। ৫২ রান নিয়ে শুরু করা শাদাব আউট হয়ে যান ৫৫ রানেই।
৬১ রানে দিন শুরু করা ফাহিম আশা জাগিয়েছিলেন অভিষেকে সেঞ্চুরির। তবে তার ইনিংস থামে ৮৩ রানে। অভিষেকে আটে নেমে পাকিস্তানের হয়ে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস।
মোহাম্মদ আমিরও আউট হয়ে যান দ্রুতই। খানিক পর শেষ জুটি ভাঙার অপেক্ষা না করে ইনিংস ঘোষণা করে দেয় পাকিস্তান।
৩৭ ছুঁইছুঁই বয়সে টেস্ট ক্রিকেটের স্বাদ পাওয়া পেসার টিম মারটাঘ নেন ৪ উইকেট।
যে ভাবনায় ইনিংস ঘোষণা করেন সরফরাজ আহমেদ, অধিনায়কের সেই আশা দারুণ ভাবে পূরণ করে দেন পাকিস্তানের নতুন বলের দুই বোলার। মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আমির লাঞ্চের আগেই এলোমেলো করে দেন আইরিশ টপ অর্ডার।
এই দুজনের দারুণ সুইং বোলিংয়ে ৭ রানেই আইরিশরা হারায় ৪ উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটে আয়ারল্যান্ডের প্রথম বাউন্ডারি আসে ছয় নম্বরে নামা কেভিন ও'ব্রায়েনের ব্যাট থেকে!
পঞ্চম উইকেটে পল স্টার্লিং ও কেভিন ও'ব্রায়েন চেষ্টা করেছিলেন প্রতিরোধের। ১৭ রানে স্টার্লিংকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন ফাহিম, দেখা পান প্রথম টেস্ট উইকেটের।
পাকিস্তানের পেসারদের দাপটে দিশাহারা আইরিশদের পরে আরও নাকাল করে ছাড়েন শাদাব। তরুণ লেগ স্পিনার নিজের দ্বিতীয় ওভারেই নেন দুটি উইকেট।
 

স্রোতের বিপরীতে দারুণ খেলছিলেন কেভিন ও'ব্রায়েন। তাকে ৪০ রানে থামান আমির। আয়ারল্যান্ডের রান তখন ৮ উইকেটে ৭৩।

সেখান থেকে লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে গ্যারি উইলসনের লড়াই দলকে নিয়ে যায় ১৩০ পর্যন্ত। উইলসন অপরাজিত থাকেন ৩৩ রানে।

প্রথম দিন টস না হওয়ায় ম্যাচ পরিণত হয়েছে চার দিনের টেস্টে, ফলো অন নেমে এসেছে দেড়শ রানের ব্যবধানে। সেই সুযোগ নিয়ে আইরিশদের ফলো অন করান পাকিস্তানী অধিনায়ক সরফরাজ। পাকিস্তান সবশেষ প্রতিপক্ষকে ফলো অন করিয়েছিল সেই ২০০২ সালের মে মাসে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে যে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন এখনকার প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল-হক।

ফলো অনের অভিজ্ঞতা অবশ্য এবার খুব সুখকর হয়নি পাকিস্তানের। প্রথম ইনিংসের হতাশা ভুলে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন আয়ার‌্যান্ডের দুই ওপেনার। আমিরের বলে দুটি ক্যাচ হাতছাড়া না হলে খেলার চিত্রটা ভিন্নও হতে পারতো।  

প্রথম ইনিংসে আইরিশদের সবচেয়ে বড় জুটি ছিল ৩৪ রানের। এবার প্রথম জুটিই তুলে ফেলেছে প্রায় দ্বিগুণ!

চল্লিস বছরে পা দিয়েও টেস্ট ক্রিকেটের স্বাদ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে ক্রিকেট খেলে যাচ্ছিলেন যিনি, সেই এড জয়েস স্বপ্ন ছোঁয়ার ম্যাচে অবশেষে চেনাচ্ছেন নিজের জাত। প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতা পেছনে ঠেলে এবার অপরাজিত ৩৯ রানে।

লড়াই করছেন অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডও। উদ্বোধনী জুটির সৌজন্যে দিনের শেষটায় হাসি ফুটেছে আইরিশদের মুখে।

ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনও প্রয়োজন ১১৬ রান। তবে উইকেট এখনও আছে ১০টিই, আইরিশদের বড় স্বস্তি এটিই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৯৬ ওভারে ৩১০/৯ (ডি.) (আগের দিন ২৬৮/৬) (শাদাব ৫৫, ফাহিম ৮৩, আমির ১৩, আব্বাস ৪*, রাহাত ০*; মারটাঘ ৪/৫৫, র‍্যাঙ্কিন ২/৭৫, কেইন ০/৮৬, টমসন ৩/৬২, কেভিন ০/২০, স্টার্লিং ০/১১)।

আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৭.২ ওভারে ১৩০ (জয়েস ৪, পোর্টারফিল্ড ১, বালবার্নি ০, নিয়াল ০, স্টার্লিং ১৭, কেভিন ৪০, টমসন ৩, কেইন ০, উইলসন ৪৪*, র‌্যাঙ্কিন ১৭, মারটাঘ ৫; আমির ২/৯, আব্বাস ৪/৪৪, রাহাত ০/১৮, ফাহিম ১/১৮, শাদাব ৩/৩১, সোহেল ০/১)।

আয়ারল্যান্ড ২য় ইনিংস: (ফলো অনের পর) ২৬ ওভারে ৬৪/০ (জয়েস ৩৯*, পোর্টারফিল্ড ২৩*; আমির ০/২, আব্বাস ০/১৩, রাহাত ০/১৮, ফাহিম ০/১৫, শাদাব ০/১৫)।