Wednesday, June 13, 2018

সালাহর প্রশংসায় সি আর সেভেন

সালাহর প্রশংসায় সি আর সেভেন




ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো মনে করছেন রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশর বনাম পর্তুগাল হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্টই আছে। তবে তাঁর ইঙ্গিত, মহম্মদ সালাহ খেললেই একমাত্র সেটা হতে পারে। এবং আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি মনে করছেন, রাশিয়ায় সালাহ স্বমহিমায় থাকলে আগামী দিনে তাঁর এবং লিয়োনেল মেসির ব্যালন ডি'ওর পাওয়ার ব্যাপারে একাধিপত্যও শেষ হয়ে যেতে পারে।

পর্তুগাল মহাতারকা বলেছেন, ''সন্দেহ নেই, মহম্মদ সালাহ বছরের সেরা আবিষ্কার। আশা করি কিয়েভে ফাইনালে চোটটা বিশ্বকাপে ওর খেলায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।'' সঙ্গে যোগ করেছেন, ''অনেকেই বলেন, ব্যালন ডি'ওর-টা শুধু আমি বা মেসিই জিতব। কিন্তু এখন অনেকেই আমাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে চলে এসেছে। সালাহ অবশ্যই তাদের এক জন।''

শুক্রবার রাতে, পর্তুগাল বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে স্পেনের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচের ফল যাই হোক, রোনাল্ডোদের নক আউট পর্যায়ে না যাওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ স্পেন বাদে গ্রুপে তাদের লড়াই মরক্কো আর ইরানের সঙ্গে।

এ দিকে, স্পেনের তারকা আন্দ্রে ইনিয়েস্তা মন্তব্য করেছেন, ''পর্তুগাল এমনই একটা দল যারা কোনও ম্যাচ হারতে মাঠে নামে না। ওদের বিরুদ্ধে সামান্য ভুলও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।'' আর রোনাল্ডোকে নিয়ে স্পেনের কিংবদন্তি ফুটবলারের মন্তব্য, ''এক জন সম্পূর্ণ ফুটবলার বলতে যা বোঝায়, রোনাল্ডো হচ্ছে ঠিক তাই। ও যে কোনও সময়, যে কোনও দলকে বড় ঝামেলায় ফেলে দিতে পারে।'' 



রাজনীতির ছায়া জার্মান শিবিরে

রাজনীতির ছায়া জার্মান শিবিরে




তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এর্দোয়ানের সঙ্গে মেসুত ওজিল ও ইলখাইন গুন্ডোয়ানের ছবি তোলার জের প্রভাবিত করতে পারে ওয়াকিম লো-র জার্মান বিশ্বকাপের দল নির্বাচনে। এমনটাই অনুমান, অলিভার বিয়েরহফের।

প্রাক্তন জার্মান তারকা বিয়েরহফ রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজের দেশের ফুটবল দলের ব্যবসায়িক ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বক্তব্য, ''এমনিতে লোককে খুশি করতে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় না লো। সস্তা জনপ্রিয়তার তত্ত্বেও ওর বিশ্বাস নেই। অনুশীলন ও ম্যাচে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সই ওর বিচারের শেষ কথা। কিন্তু ওই দু'জন ফুটবলারকে ঘিরে কেলেঙ্কারির যে ঘটনা ঘটেছে তা সামান্য হলেও এ বার দল নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আমার মনে হয়।''

ওজিল ও গুন্ডোয়ান— দু'জনেরই শহর জার্মানির গেলেসেনকারখেনে। দু'জনেরই বাবা-মা তুরস্কজাত। গত মে মাসে তাঁরা তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে লন্ডনে ছবি তোলেন। জার্মানির বিশ্বকাপ দল ঘোষণার এক দিন আগে সে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে আসে। এবং তার পর পরই জার্মানি যথাক্রমে অস্ট্রিয়া ও সৌদি আরবের সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে। এই দুটি ম্যাচের সময়ই ওজিল ও গুন্ডোয়ানকে খেলানো নিয়ে জার্মানিতে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল।

তুরস্কের সঙ্গে জার্মানির সম্পর্ক এই মুহূর্তে খুবই খারাপ। জার্মান সমাজ তুরস্কের অভিবাসীদের প্রতি এখন রীতিমতো ক্ষিপ্ত। বিশেষ করে ২০১৭ সালে তুরস্ক বংশোদ্ভূত জার্মান সাংবাদিক দেনিজ ইউসেল গ্রেফতার হওয়ার পরে। তুরস্ক সরকার তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনেছে। 

এ দিকে বিয়েরহফ বলেছেন, ''অভিবাসীদের নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকবে। ওজিলদের ছবিটা দিয়েও শেষ হবে না আলোচনা। আমার অনুরোধ একটাই। বিশ্বকাপের সময় খেলোয়াড়দের মনটা যাতে পুরোপুরি ফুটবলেই থাকে সেটা যেন সবাই মাথায় রাখেন।''

একই দাবি করেছেন জার্মান গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যারও। ইতালির এক দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ''দয়া করে সবাই পুরো দেশটার কথা ভাবুন। শুধু দু'জন ফুটবলারকে নিয়ে ভাবার কোনও দরকার নেই।'' গোটা পরিস্থিতি পর্বেক্ষণ করে বিয়েরহফ বলতে চেয়েছন, এই ধরনের ঝামেলায় যে সমস্ত ফুটবলারের মন খেলা থেকে সরে যেতে পারে, তাঁদের হয়তো ওয়াকিম লো তাঁর চূড়ান্ত এগারোতে বিশ্বকাপের সময় রাখবেন না।


মারাদোনা যুগ ভুলে এগিয়ে যেতে চান মেসি

মারাদোনা যুগ ভুলে এগিয়ে যেতে চান মেসি




আর্জেন্তিনা দলে দিয়েগো মারাদোনা এবং তাঁর বিখ্যাত জুটি নিয়ে মুখ খুললেন লিয়োনেল মেসি। আর্জেন্তিনার সংবাদপত্র 'লা নাসিয়ন'-র সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মেসি জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেই অভিশপ্ত অভিজ্ঞতার কথা। তবে মারাদোনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন ছিল, তা নিয়ে খুব একটা কথা বলতে চাননি তিনি।

২০১০-এ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে বিপর্যয়ের পরে তাঁর কী মনে হয়েছিল? সংবাদপত্রটির প্রশ্নের সামনে মেসি বলেছেন, ''বিশ্বকাপ থেকে আগেভাগেই হেরে বিদায় নিতে হলে সকলেই ভেঙে পড়বে। আমারও সেই অবস্থা হয়েছিল। তবে অতীতে পড়ে থাকার মানে হয় না। প্রত্যেকটি অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিতে হয়।'' দ্রুত যোগ করছেন, ''জীবনের মতোই ফুটবলেও আমি ভাগ্যবান যে, বেশির ভাগ ভাল মুহূর্তই পেয়েছি। কিন্তু আমি খারাপ মুহূর্তগুলো থেকেও ইতিবাচক তরঙ্গ বার করে নেওয়ার চেষ্টা করি। যাতে সব সময় শেখার প্রক্রিয়াটা চালিয়ে যেতে পারি।''

আর্জেন্তিনা জুড়ে স্লোগান উঠে গিয়েছে, এ বার নয়তো আর কখনও নয়। লিয়োনেল মেসির এটাই শেষ সুযোগ বিশ্বকাপ জেতার। নিজের দেশে দিয়েগো মারাদোনার সঙ্গে অহরহ তাঁর তুলনা টেনে বলা হয়, মেসি শুধু ক্লাব ফুটবলেই সেরা। মারাদোনার মতো ক্লাব-দেশ দু'জায়গাতে সফল নন। মারাদোনার মতো কখনও আর্জেন্তিনাকে বিশ্বকাপ দিতে পারেননি তিনি। সেই সমালোচনাকে চিরতরে থামিয়ে দেওয়ার এটাই সম্ভবত শেষ সুযোগ।

অতীতে নিয়ে পড়ে থাকতে চান না বলে দিলেও মেসি কিন্তু জানাতে ভোলেননি যে, সমস্ত খারাপ ফল তাঁকে আঘাত করে। ''ভেনেজুয়েলায় কোপা আমেরিকা কাপে আমি ভাল খেলছিলাম। কিন্তু ব্রাজিলের কাছে ফাইনালে হারটা একটা বড় ধাক্কা ছিল। খুবই হতাশ হয়েছিলাম। আমাদের কাপ জেতার মতো দক্ষতা ছিল। খুব ভাল খেলছিল দল। তার পরেও ফাইনালে গিয়ে হারলাম। সমস্ত আশাই শেষ হয়ে গেল এক সেকেন্ডের ভুলে। আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম।'' এর পরেই মারাদোনার সঙ্গে তাঁর জুটির বাধার প্রসঙ্গে ঢুকে পড়েন। আর্জেন্তিনার ভাগ্য ফেরাতেই মারাদোনাকে কোচ করে এনেছিলেন আর্জেন্তিনার কর্তারা। কিন্তু তিনি যত বড় ফুটবলার ছিলেন, ততটাই ব্যর্থ হলেন কোচ হিসেবে। মেসি সেই সময়ের কথা মনে করতে গিয়ে বলছেন, ''দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতাটা মনে পড়লে খারাপ লাগে কারণ, আমাদের নিয়ে কত লোকের কত প্রত্যাশা ছিল। দল হিসেবে আমরা ভাল খেলছিলাম বলে সেই প্রত্যাশা আরও বেড়ে গিয়েছিল।''

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জন্য অন্যদের দিকে আঙুল না তুলে নিজেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মেসি। যেটা তাঁর বরাবরের বৈশিষ্ট। বলেছেন, ''একটাও গোল করতে পারিনি আমি। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। কিন্তু আমাকে মনে রাখতে হবে যে, কোনও কোনও সময়ে এমন ঘটনা জীবনে ঘটে যার কোনও ব্যাখ্যা হয় না। পরে গিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পেরেছিলাম এই বলে যে, আমি তো সর্বাত্মক ভাবে চেষ্টা করেছিলাম। আমি পারিনি সে বার কিন্তু চেষ্টায় কোনও ত্রুটি ছিল না।'' তার পরেই যেন সারা ফুটবল দুনিয়ায় তাঁর ভক্তদের উদ্দেশে আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন, ''জাতীয় দলের জার্সি পরে আমি সব সময় নিজের সেরাটা দিয়েছি। সব সময় আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছি সেরা খেলাটা খেলার।''

চিনে অলিম্পিক্স সোনা জয়ের অভিজ্ঞতা এখনও শিশুর মতো আনন্দ এনে দেয় তাঁর মুখে। ''চিনের সেই দিনগুলো দারুণ ছিল। অনেকে আমাকে বলেছিলেন, যাও, দারুণ উপভোগ করবে অলিম্পিক্সের আবহ। চিনে না গেলে সেটা বুঝতে পারতাম না। আমাদের গ্রুপটার জন্য অলিম্পিক্সে সোনা জেতাটা অবিস্মরণীয় একটা মুহূর্ত ছিল। সারা জীবন সোনা জয়ের অনুভূতিটা থেকে যাবে,'' বলে ফেলছেন তিনি। সেই সময়ে বার্সেলোনার সঙ্গে টক্কর চলছিল আর্জেন্তিনার তাঁকে ছাড়া নিয়ে। মেসি কিন্তু এত বছর পরেও বলে দিচ্ছেন, ''ভাগ্য ভাল যে, পেপ (গুয়ার্দিওলা তখন বার্সেলোনায় মেসিদের কোচ) আমার অবস্থাটা বুঝেছিলেন এবং গেমসে খেলার অনুমতি দিয়েছিলেন।''

ফুটবল জীবনের অমূল্য শিক্ষা? রাশিয়া বিশ্বকাপে যাঁর উপর নজর থাকবে সারা দুনিয়ার, তিনি বলে দিচ্ছেন, ''জিতলে সব কিছু ঠিক চলে। সব কিছুই ভাল চলছে। আমরা, ফুটবলাররা সেই সত্যটা মেনে চলি!''


চাই ভাল ঘুম, নিয়ম জারি তিতের শিবিরে

চাই ভাল ঘুম, নিয়ম জারি তিতের শিবিরে



বিশ্বকাপ জেতার জন্য ব্রাজিলের হাতে কী কী অস্ত্র আছে? এক নম্বর অস্ত্র অবশ্যই নেমার দ্য সিলভা স্যান্টোস (জুনিয়র)। আর একটি অস্ত্র হল, ঘুম!

মনে করা হচ্ছে, মাঠে সেরাটা দিতে হলে রাতে খুব ভাল করে ঘুমোতে হবে নেমারদের। এবং ফুটবলাররা যাতে ঠিকঠাক ঘুমোতে পারেন, তার জন্য বিশেষ কতকগুলো নিয়মও মানা হচ্ছে ব্রাজিল শিবিরে। কী সেই সব নিয়ম? ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ন'দফা নিয়ম জারি করা হয়েছে শিবিরে। যা মেনে চলতে হবে ব্রাজিলের ফুটবলারদের। একটি নিয়ম হল, রাতে শোওয়ার সময় ঘরের তাপমাত্রা ২১ থেকে ২৩ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে হবে। আর একটি নিয়ম হল, রাতে কফি খেয়ে কিছুতেই ঘুমোনো যাবে না। শুধু কফি নয়, যে কোনও ক্যাফেন জাতীয় খাবারের ওপরেই নিষেধাজ্ঞা আছে। আবার ঘুমোনোর সময় এমন কোনও পোশাক পরা চলবে না, যাতে গরম বেশি লাগে। সম্ভবত সব চেয়ে কড়া নিয়ম হল, ল্যাপটপ, মোবাইল ট্যাবলেট— কিছু নিয়েই বিছানায় ওঠা যাবে না। ঘুমের আগে সব কিছু টেবিলে রেখে, চুপচাপ শুয়ে পড়তে হবে। বিছানায় শুয়ে দেখা চলবে না টেলিভিশনও। এ বারের ব্রাজিলকে অনেক বিশেষজ্ঞই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারে বড় দাবিদার হিসেবে দেখছেন। যার মধ্যে আছেন রোনাল্ডো লুই নাজারিও দে লিমাও। এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রোনাল্ডো বলেন, ''অবশ্যই আমার কাছে ব্রাজিল ফেভারিট। আর সেটা আমি ব্রাজিলিয়ান বলে কিন্তু নয়। আমি নেমারদের ফেভারিট বলছি, কারণ ওরা ভাল ফুটবল খেলছে।''

মস্কোয় একটি অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ৪১ বয়সি রোনাল্ডো ব্রাজিলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বেছে নেন স্পেন এবং জার্মানিকে। ''জার্মানি সব সময়ই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী,'' বলেছেন দু'বারের বিশ্বজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য।



Tuesday, June 12, 2018

কাপ জয়ের এটাই সেরা সুযোগ, মত অ্যাজারের !

কাপ জয়ের এটাই সেরা সুযোগ, মত অ্যাজারের !



বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার তিন দিন আগে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মকে আরও তাতিয়ে দিলেন অধিনায়ক এডেন অ্যাজার। সোমবার তিনি বললেন, ''দুই বা চার বছরের অপেক্ষা নয়। বিশ্বকাপে কিছু করতে হলে, এবারই সেরা সময়।''

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে এখন তিন নম্বরে আছে বেলজিয়াম। ফুটবল বিশেষেজ্ঞদের মত, এ বারের দলটা ধারে এবং ভারে দেশের সর্বকালের শক্তিশালী দল। অ্যাজার নিজে  চেলসির হয়ে দারুণ খেলেছেন ক্লাব ফুটবলে। সেই ধারা অব্যাহত রাখতে  বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করেছেন অ্যাজার। তাঁর সঙ্গে দলে রয়েছেন কেভিন দ্য ব্রুইন এবং রোমেলু লুকাকুর মতো ফুটবলার। সে জন্যই অ্যাজার বলেছেন, ''এ বারের বিশ্বকাপে আমাদের কিছু করে দেখাতেই হবে। দলের বেশির ভাগ ফুটবলার এ বার বিশ্বের নামী ক্লাবে সাফল্যের সঙ্গে খেলেছে। ফলে যদি কিছু করতে হয় তা হলে সেটা এ বারই।''

বিশ্বকাপে বেলজিয়াম রয়েছে তিউনিজ়িয়া, ইংল্যান্ড, এবং পানামার সঙ্গে একই গ্রুপে। বেলজিয়ামের একটি স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের সই দেওয়ার ফাঁকে অ্যাজারের মন্তব্য, ''এটা ঠিক যে এ বার আমি ক্লাবে খুব ভাল খেলেছি।  গোল করেছি। সব দলেই কোনও এক বা দু'জনের উপর সবার নজর থাকে। সেটা হয়তো আমাদের দলের ক্ষেত্রেও সত্যি।'' এখানেই থেমে থাকেননি বেলজিয়ামের সেরা তারকা। বলে দিয়েছেন, ''তবুও বলছি আমাদের দল শুধু এডেন অ্যাজারের উপর নির্ভরশীল নয়। সব ফুটবলারই জানে কী ভাবে কোনও খেলায় সমস্যার সমাধান করতে হয়। সবাই মিলে কাজ করতে হবে। তবেই বিশ্বকাপ পাওয়া সম্ভব  হবে।''  


বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলেই বিদায়ের ইঙ্গিত মেসির !

বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলেই বিদায়ের ইঙ্গিত মেসির !



বিশ্বকাপ শুরুর অন্তিম লগ্নে দাঁড়িয়ে লিয়োনেল মেসির মাথায় ঘুরছে অবসরের ভাবনা। একই সঙ্গে তিনি ফিরে যাচ্ছেন দু'বছর আগের এক ঘটনায়। যা তাঁকে কাঁদিয়েছিল। যা তাঁকে এখনও যন্ত্রণা দেয়।

রাশিয়া বিশ্বকাপের ফল যে তাঁর আন্তর্জাতিক ফুটবল জীবনের ভাগ্য ঠিক করে দেবে, তার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন মেসি। বিশ্বকাপ না জিতলে হয়তো দেশের জার্সিতে আর দেখা যাবে না তাঁকে। এক স্প্যানিশ দৈনিকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মেসি বলেন, ''আমার আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ভর করবে এ বারের বিশ্বকাপে আমরা কতদূর কী করতে পারি, তার ওপর। দেখা যাক, আমরা এই বিশ্বকাপে কোথায় শেষ করতে পারি।''

আর্জেন্তিনার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা ভাল নয়, তাও পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে মেসির কথায়। তিনি বলেছেন, ''আমরা তিনটে ফাইনাল পরপর হেরেছি। যার জেরে আমাদের সঙ্গে আর্জেন্তিনার সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। তিনটে ফাইনালে ওঠার কৃতিত্বটা আমরা এক ভাবে দেখেছি, ওরা অন্য ভাবে দেখেছে।''

ক্লাবের হয়ে চূড়ান্ত সফল ফুটবলার এখনও পর্যন্ত দেশকে কোনও বড় ট্রফি এনে দিতে পারেননি। যার জেরে বার বার দেশের সংবাদমাধ্যম কাঠগড়ায় চড়িয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে। চোখের জলে তো এক বার অবসরও নিয়ে ফেলেছিলেন মেসি। কিন্তু আরও একটা ঘটনা তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিল। যার জন্য বার্সেলোনায় বসে কাঁদতে হয়েছে মেসিকে।

কী সেই ঘটনা? মেসি জানিয়েছেন, কর ফাঁকি মামলায় যে ভাবে তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছিল, তা তিনি সহ্য করতে পারেননি। ''একটা সময় আমি তো বার্সেলোনায় বসে কাঁদতাম। মনে হত, কেন এই অবস্থার মধ্যে পড়তে হল?'' মেসি আরও যোগ করেন, ''আমি হয়তো পুরোপুরি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়িনি, কিন্তু ওরা আমাকে যে ভাবে আক্রমণ করেছিল, যে ভাবে আমার বাবা এবং ঘনিষ্ঠদের সম্পর্কে খবর প্রকাশ করা হয়েছিল, তা মেনে নেওয়া যায় না। মনে হচ্ছিল, চার দিক থেকে আমাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন।'' এ ক্ষেত্রে মেসি ইঙ্গিত করেছেন মাদ্রিদের সংবাদমাধ্যমের দিকে। কর ফাঁকি মামলায় মেসির ২১ মাস কারাবাস এবং জরিমানা হয়েছিল। কিন্তু স্প্যানিশ আইন অনুযায়ী, হিংসাত্মক অপরাধ ছাড়া দু'বছরের কম কারাদণ্ড হলে জেল খাটতে হয় না। মেসিকেও হয়নি। কিন্তু এটা পরিষ্কার, সেই ঘা এখনও যন্ত্রণা দেয় ফুটবলের রাজপুত্রকে।

তবে মেসি কৃতজ্ঞ বার্সেলোনা ক্লাবের কাছে। এই মুহূর্তে কর ফাঁকি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও। রোনাল্ডোর ক্ষোভ, মেসির পাশে বার্সা যে ভাবে দাঁড়িয়েছিল, রিয়াল মাদ্রিদ সে ভাবে তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছে না। মেসিকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ''আমি সে দিক দিয়ে ভাগ্যবান।'' এর পরে যোগ করেন, ''আমার পাশে আমার পরিবারের লোকজন ছিল, বার্সার লোকজন ছিল। আমার ভাগ্য ভাল ছিল।'' 

মাঠের বাইরে দু'জনে একই বিতর্কে জড়িয়েছেন। আবার মাঠের মধ্যে দেখা গিয়েছে, মেসি এমন এক অস্ত্র রপ্ত করার চেষ্টা করছেন, যা দেখা গিয়েছে রোনাল্ডোর তূণেই। বাইসাইকেল কিক।

সোমবার ছিল রাশিয়ায় আর্জেন্তিনার অনুশীলনের দ্বিতীয় দিন। যেখানে ফুট-টেনিস খেলতে দেখা যায় আর্জেন্তিনার ফুটবলারদের। ওই সময়ই দেখা যায় শূন্যে শরীর ছুড়ে বাইসাইকেল কিক মারছেন মেসি।

সোমবার অনুশীলনে আর্জেন্তিনার যে প্রথম দল খেলেছে, তার থেকে মোটামুটি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে কী হতে পারে মেসিদের প্রথম একাদশ। আর্জেন্তিনার সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আক্রমণের দায়িত্বে মেসির সঙ্গে থাকবেন অ্যাঙ্খেল দি মারিয়া এবং সের্খিয়ো আগুয়েরো।


ভারতের থেকে এশিয়া কাপ ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশের মেয়েরা(কোচ অঞ্জু জৈন'কে কৃতিত্ব দিতেই হবে)

ভারতের থেকে এশিয়া কাপ ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশের মেয়েরা(কোচ অঞ্জু জৈন'কে কৃতিত্ব দিতেই হবে)




বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এশিয়া কাপ জেতার জন্য পুরস্কারের ঘোষণা করেছে। কোচিং স্টাফরা পাবেন মোট ৭৫ হাজার ডলার। আর প্রত্যেক ক্রিকেটার পাবেন ১৪,৮০০ টাকা করে। বেতন বাড়ানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।মিতালি-ঝুলনের ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের মহিলাদের এশিয়া কাপ জেতার নেপথ্যে মিতালি-ঝুলনদেরই প্রাক্তন সতীর্থ!

মাত্র তিন সপ্তাহ হল পদ্মাপারের দেশে মহিলা ক্রিকেট দলের কোচের পদে এসেছেন অঞ্জু জৈন। আর দায়িত্ব নিয়েই এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন বাংলাদেশকে।শুধু রবিবার কুয়ালালামপুরে ফাইনালেই ভারতকে হারিয়ে এশিয়া-সেরা হয়েছে বাংলাদেশ, তা নয়। গ্রুপের ম্যাচেও ভারত ও পাকিস্তানকে হারিয়েছিল তারা।  

আর এখানেই অঞ্জুর কৃতিত্ব।আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো মুহুর্তের মধ্যে পালটে দিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা দলকে। গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে টানা আট ম্যাচে হেরেছিল তারা। মনোবল তলানিতে ঠেকেছিল। সেই দলকে হাতে নিয়েই পাইয়েছেন সাফল্যের স্বাদ। আর সেটাও ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ফেভারিট ভারতের বিরুদ্ধে টানটান উত্তেজনার মুহূর্তে। শেষ বলে দরকার ছিল দুই রান। তার আগের দুই বলে পড়েছিল উইকেট। রীতিমতো রক্তচাপ বাড়ার পরিস্থিতি। শেষ বলে বাংলাদেশের বাজিমাতের নেপথ্যে কোচ অঞ্জুকে কৃতিত্ব তাই দিতেই হবে।



এর আগে ২০১২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১৩ সালে একদিনের বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের কোচ ছিলেন অঞ্জু। কিন্তু, দেশের বাইরে এটাই তাঁর প্রথম কোচিং। আর দায়িত্ব নিয়ে প্রথম বলেই ছয় মারার মতোই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।

ক্রিকেটার হিসেবেও অঞ্জু ছিলেন বেশ সফল। প্রাক্তন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান খেলেছেন ৮টি টেস্ট ও ৬৫টি ওয়ান-ডে। ১২ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পর, ২০০৫ সালে অবসর নেন। টেস্টে মোট রান ৪৪১, গড় ৩৬.৭৫। ক্যাচ ১৫টি, স্টাম্প ৮টি। একদিনের ক্রিকেটে মোট রান ১৭২৯। গড় ২৯.৮১। ক্যাচ ৩০টি, স্টাম্প ৫১টি। ২০০০ সালে বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বে সেমিফাইনালেও উঠেছিল ভারত।

খেলা ছাড়ার পর কোচিংয়েই মন দেন অঞ্জু। বড় সাফল্য এই প্রথম। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এশিয়া কাপ জেতার জন্য পুরস্কারের ঘোষণা করেছে। কোচিং স্টাফরা পাবেন মোট ৭৫ হাজার ডলার। আর প্রত্যেক ক্রিকেটার পাবেন ১৪,৮০০ টাকা করে। বেতন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।